পূর্ণ
চন্দ্র মন্ডল ::কপোতাক্ষ নদীর অস্বাভাবিক
জোয়ারের পানিতে প্লাবিত পাইকগাছার রাড়ুলী গ্রাম। ছবিতে মনে হচ্ছে এটি কোন
খাল বা প্রবাহিত জলরাশি। না এটি রাড়ুলী পিসিরায় সড়ক। ভূবন মোহিনী
প্রথম বালিকা বিদ্যালয় থেকে ভিতর দিয়ে ষষ্ঠীতলায় বাজার যেতে ইটের সলিং
এর রাস্তা।
শুক্রবার দুপুরে কপোতাক্ষের পানি বৃদ্ধিতে বেঁড়িবাঁধ
উপচে রাড়ুলী ইউনিয়নের জেলে পল্লী, গাজী পাড়া, সানা বাড়ীসহ বিস্তীর্ণ
এলাকা পানিতে নিমোজ্জিত হয়েছে। ৮/১০ ঘর মানুষ তাদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র
আশ্রয় নিয়েছে। চেয়ারম্যান, মেম্বর থেকে শুরু করে তাদের দেখার কেউ নাই।
এলাকাবাসীর শঙ্কা! রাতে আরো বেশী জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাবে। তাদের কি
উপায় হবে? ইতোমধ্যে বেঁড়িবাঁধ ভেঙ্গে, উপচে রাড়ুলী গ্রামের উত্তরাংশের
গাছ-গাছালী, ঘর-বাড়ী, রাস্তা-ঘাট, ক্ষেতের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।
মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী। জনদুর্ভোগ চরমে। উল্লেখ্য খুলনার
দক্ষিণাঞ্চলে পাইকগাছার রাড়ুলী একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম।
এখানে
জগদ্বিখ্যাত আচার্য বিজ্ঞানী স্যার পিসিরায় এর জন্মভিটা। কপোতাক্ষের
করালগ্রাসে বিখ্যাত বিজ্ঞানীর জন্মস্থান রাড়ুলী হুমকির মূখে। কপোতাক্ষ
নদের খরস্রোতে গিলছে ঘরবাড়ী, গাছপালা, রাস্তা-ঘাট ও ফসলের জমি। ভাঙ্গণের
প্রবনতা এতটাই কপোতাক্ষের পাড়ে জেলে পল্লী এলাকার মানুষগুলো চরম আতঙ্কের
মধ্যে দিন পার করছে। বলা যায় নির্ঘুম রাত পার করছে। ধীরে ধীরে নদীতে
জোয়ারে পানি বৃদ্ধি আর ভাটায় পানি কমতে থাকে। সাথে সাথে পল্লীর বসবাসরত
মানুষের দুলাচালে শংকা তত বাড়তে থাকে। এটা তাদের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
কারোর বসত ঘরের ধ্বসে গেছে, কারোর গাছ-গাছালী, কারোর আধা-পাকা ঘরের অংশ
ঝুলছে।
কারোর খড়ের গাদা, রান্না ঘর সহ ভেসে গেছে ফসলের ক্ষেত।
কোথাও পুরো রাস্তা। কোথাও দু'চারটি ইট জানান দিচ্ছে এখানে রাস্তা ছিল।
লবনাক্ততার কারণে ফসল নষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে হঠাৎ নদীতে অস্বাভাবিক পানিতে
বৃদ্ধিতে নিমোজ্জিত এলাকাবাসী আতংকিত। বকুল বিশ্বাস, কালী বিশ্বাস, মোমিন
সানা, মাদার গাজী, মেম্বর বজলু মোড়লরা তাদের ঘর-বাড়ী ফেলে স্বজাতিদের
বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। অতিসত্ত্বর ভাঙ্গন প্রতিরোধ এবং বেঁড়িবাঁধ
নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য এমপি, স্থানীয় প্রশাসনসহ
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাবাসী।
0 coment rios: